Tue. Aug 16th, 2022

‘নির্বাচন কারো উৎসব, আমাদের আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টারঃ
যে কোনো নির্বাচন এলেই ধর্মীয়
সংখ্যালঘুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন৷
নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময় এবং
পরে নির্যাতিত হন তাঁরা৷ ১৯৯১ সাল
থেকে এমনই হয়ে আসছে৷ এ অবস্থার অবসান
চেয়ে মহাসমাবেশ করেছে হিন্দু বৌদ্ধ
খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ৷
এবার আগে থেকেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু
নেতারা নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে
উদ্যোগ নিয়েছেন৷ রাজনৈতিক দলগুলোর
সঙ্গে গত ৬ মাস ধরে দফায় দফায় বৈঠকের
পর শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী
উদ্যানে মহাসমাবেশ করেছে হিন্দু বৌদ্ধ
খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ৷ সেখানে পরিষদের
পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে৷
বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে
যাঁরা মনোনয়ন দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে
অবস্থান নেবে ঐক্য পরিষদ৷ সাম্প্রদায়িক
গোষ্ঠীকে মনোনয়ন না দেয়ার আহবান
জানিয়েছেন নেতারা৷

শুক্রবার সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান৷ বক্তব্য
রেখেছেন মানবাধিকার কর্মী
অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, লেখক,
সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, পঙ্কজ
ভট্টাচার্য, আদিবাসী পরিষদের সম্পাদক
সঞ্জীব দ্রং, খ্রিষ্টান পরিষদের সভাপতি
নির্মল রোজারিওসহ অনেকেই৷
ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক নিম চন্দ্র
ভৌমিক৷ আর ঐক্য পরিষদের পক্ষে ৫ দফা
দাবি তুলে ধরেন পরিষদের সাধারণ
সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত৷ অনুষ্ঠানের
সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন পূজা
উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক
নির্মল চ্যাটার্জি৷
রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘নির্বাচন তো
রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য উৎসবের, কিন্তু
আমাদের জন্য আতঙ্কের৷ যখনই নির্বাচন
হয়েছে তারপরই আমরা দেখেছি, ধর্মীয়
সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন নেমে
এসেছে৷ আমরা আর নির্যাতিত হতে চাই
না৷ তাই এবার নির্বাচনের আগেই সবগুলো
রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ৬ মাস
ধরে বৈঠক করেছি৷ আজ সমাবেশ করলাম৷

আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি
আহবান জানিয়েছি, সাম্প্রদায়িক
গোষ্ঠীকে যেন কোনোভাবেই
নির্বাচনের সুযোগ দেয়া না হয়৷”
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘‘আজ
এখান থেকে যে দাবিগুলো উত্থাপিত
হয়েছে, তার সঙ্গে আমি একমত পোষণ
করছি৷ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কোনো
বৈষম্যমূলক সমাজের জন্য হয়নি৷ ধর্মীয়
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রকেই
নিশ্চিত করতে হবে৷” সুলতানা কামালও
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করার দাবি জানান৷ সমাবেশে অন্য
অতিথিরা বলেন, এই প্রতিবাদ সমাবেশ
মানবিকতা রক্ষা করার জন্য আয়োজন
করা হয়েছে৷ সংখ্যালঘুরা এই দেশ থেকে
দিন দিন কেন কমে যাচ্ছে, তার জবাব
সরকারকে দিতে হবে৷ এই সরকারের
আমলেই সাঁওতালদের বাড়িতে আগুন
দেওয়া হয়েছে এবং তিন সাঁওতালকে
হত্যা করা হয়েছে৷ তার বিচার এখনো
হয়নি৷ রামুতে এবং পাহাড়ের পাদদেশে
রক্তের হোলি খেলা চলছে এগুলো বন্ধ
করতে হবে৷ সবগুলো হত্যাকাণ্ডের বিচার
দাবি করেন বক্তারা৷

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই সমাবেশে
২২টি সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী
যোগ দেন৷ দুপুর একটায় সমাবেশ শুরু হওয়ার
কথা থাকলেও দুটোর দিকে শুরু হয়েছে৷
সমাবেশ শেষে হিন্দু সাংবাদিকদের
সংগঠন ‘স্বজন’-এর সভাপতি সন্তোষ শর্মা
বলেন, ‘‘আমরা আর বসে থাকতে পারি না৷
বারবার নির্যাতিত হবো, এটা হতে পারে
না৷ এবার আমরা বলেছি, নির্বাচনের
আগে বা পরে যদি সংখ্যালঘুদের ওপর
নির্যাতন নেমে আসে, তাহলে আমরা
কঠোর আন্দোলনে যাবো৷ প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার প্রতি আমরা অনুরোধ
করেছি, সাম্প্রদায়িক কাউকে মনোনয়ন
না দিতে৷ আমরা আশা করি, তিনি
আমাদের কথা শুনবেন৷”
বক্তারা বলেন, ‘‘নির্বাচন আমাদের কাছে
উৎসব না৷ বিপর্যয়ের শঙ্কা নিয়ে আসে৷
তখন আমরা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং
রাষ্ট্রের নির্বিকার ভূমিকা সব সময় লক্ষ্য
করি৷” সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানানো
হয় সমাবেশ থেকে৷ সাম্প্রদায়িক শক্তির
বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবানও জানান
তাঁরা৷
ঐক্য পরিষদের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য
কাজল দেবনাথ বলেন, ‘‘সারাদেশ থেকে
হাজার হাজার মানুষ এই সমাবেশে
এসেছেন৷ তাঁরা বলেছেন, আমরা
দ্বিজাতি তত্বের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ
করিনি৷ সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকবে
সেটার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি৷
এমনকি বঙ্গবন্ধুও এই জন্য মুক্তিমুদ্ধ
করেননি৷ এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
থেকেই বঙ্গবন্ধু সাম্যের কথা বলেছিলেন৷

এমন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু চাননি, শেখ
হাসিনার কাছ থেকেও আমরা প্রত্যাশা
করি না৷ এখানে সব মানুষের সমান
অধিকার থাকবে, সেটাই প্রত্যাশা৷”
২০০১ সালের নির্বাচনের পর
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক
সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে৷ ২০১২
সালের অক্টোবরে কক্সবাজারের রামুতে
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর বড় ধরনের হামলা
হয়৷ ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসির নগরে হিন্দুদের
শতাধিক বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাঙচুর এবং
লুটপাট করা হয়৷ অন্তত ১০টি মন্দির ও
প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়৷ হিন্দু পল্লিতে
নারী-পুরুষকে বেধড়ক পেটানো হয়৷ ২০১৭
সালের নভেম্বরে সংখ্যালঘুদের ওপর
হামলা হয় রংপুরের গঙ্গাচড়ার ঠাকুরপড়া
এলাকায়৷ ওই ঘটনার পর সারাদেশে আরো
অন্তত পাঁচটি মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা
ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে৷

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা
বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন
(ইউএসসিআইআরএফ) তাদের প্রতিবেদনে
জানায়, ‘‘বাংলাদেশে ধর্মীয়
সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বেড়েছে৷”
সংস্থাটি বলেছে, ‘‘‘ভূমি দখলের ক্ষেত্রে
হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা
আক্রমনের শিকার হন৷ ২০১৪ সালের জাতীয়
নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ধর্মীয়
সংখ্যালঘুরা বার বার আক্রমনের শিকার
হয়েছেন৷ সামনে নির্বাচন নিয়ে তাই
আতঙ্কে আছেন তাঁরা৷”
বাংলাদেশ পূজা উৎযাপন পরিষদের
সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি বলেন,
‘‘আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
জন্মদিন৷ এই দিনে আমরা সমাবেশ করে
প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, সাম্প্রদায়িক
শক্তিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবেন
না৷ নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন না৷ এদের
বিরুদ্ধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি,
থাকতে চাই৷”

উৎস:ডায়েচবেল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপদেষ্টা মন্ডলীঃমোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন(হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
ডঃ দিলিপ কুমার দাস চৌঃ ( অ্যাডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট ঢাকা)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী ।।আইন সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আজির উদ্দিন (সেলিম)
নির্বাহী সম্পাদক: দিলুয়ার হোসেন।। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোছাঃ হেপি বেগম ।I বার্তা সম্পাদক: মোঃ ছাদিকুর রহমান (তানভীর)
প্রধান কার্যালয় ২/২৫, ইস্টার্ণ প্লাজা,৩য়-তলা ,আম্বরখানা সিলেট-৩১০০।
+8801712-783194 dailyhumanrightsnews24@gmail.com