Sun. Jul 25th, 2021

বাংলাদেশের আগাম দুর্যোগ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত

সম্পাদক আজির উদ্দিন সেলিম, দৈনিক মানবাধিকার সংবাদ।


ঢাকা, ১৬ আষাঢ় ( ৩০জুন) :
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল)-এ দুর্যোগ সতর্কীকরণ গবেষণা কেন্দ্রের (ওয়ার্নিং রিসার্চ সেন্টার) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সমাদৃত হয়েছে। আজ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ভার্চুয়ালি এই কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করায় এই অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোহসীনকে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
মোঃ মোহসীন তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ত্রাণনির্ভর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেন । ১৯৭২ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার ব্যবস্থা শুরু করেন। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্পদ বাঁচাতে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রচারে সিপিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে সিপিপি’র যাত্রা শুরু করেছিলেন যাঁরা আগাম সতর্কসংকেত প্রচার এবং সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের জানমাল রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রেখে আসছে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক সংখ্যা ৭৬ হাজার ২০ জনে উন্নীত হয়েছে। এই স্বেচ্ছাসেবকদের ৫০ শতাংশ নারী। তিনি আরো উল্লেখ করেন, পুরো দেশ জুড়ে আধুনিক আবহাওয়ার রাডার এবং পূর্বাভাস ব্যবস্থা রয়েছে। উপকূলে ৫ হাজারের বেশি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে । জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দুর্যোগে প্রাণহানির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব বলেন, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ১০ লাখের অধিক মানুষ প্রাণ হারান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে সাম্প্রতিককালে একই মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি একক সংখ্যায় নেমে এসেছে ।
দুর্যোগ সতর্কীকরণ গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিচালক ড. কারিনা ফার্নলি, উপ-পরিচালক অধ্যাপক ইলান কেলমান, ইউসিএল সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডিজাস্টারের পরিচালক অধ্যাপক মওরিন ফর্ডহ্যাম এবং লিভারপুল হোপ ইউনিভার্সিটির আর্লি ওয়ার্নিং বিশেষজ্ঞ এলিস বেনেটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
ড. কারিনা ফার্নলি বাংলাদেশের দুর্যোগ সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সাফল্যের কারণ হিসেবে কার্যকর নীতি ও সবল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদে সমৃদ্ধ সতর্কীকরণ কেন্দ্র, মানবতার সেবায় বলীয়ান প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক, পর্যাপ্ত সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র ও সমাজের সকলকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার নীতির বিষয় উল্লেখ করেন । তিনি বাংলাদেশের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ও অনুসরণীয় বলেও মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক মওরিন ফর্ডহ্যাম বলেন, দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সকল পর্যায়ে নারীর নেতৃত্ব বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। বাংলাদেশের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় নারীর নেতৃত্ব বিশেষভাবে প্রশংসার যোগ্য।
আর্লি ওয়ার্নিং বিশেষজ্ঞ এলিস বেনেট বলেন, বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকের অংশগ্রহণের কারণে বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি একটি বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এই প্রক্রিয়ায় দুর্যোগপ্রবণ দেশসমূহ তাদের দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।
#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপদেষ্টা মন্ডলীঃমোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন(হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
ডঃ দিলিপ কুমার দাস চৌঃ ( অ্যাডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট ঢাকা)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী ।।আইন সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আজির উদ্দিন (সেলিম)
নির্বাহী সম্পাদক: দিলুয়ার হোসেন।। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোছাঃ হেপি বেগম ।I বার্তা সম্পাদক: মোঃ ছাদিকুর রহমান (তানভীর)
প্রধান কার্যালয় ২/২৫, ইস্টার্ণ প্লাজা,৩য়-তলা ,আম্বরখানা সিলেট-৩১০০।
+8801712-783194 dailyhumanrightsnews24@gmail.com