Fri. Jul 23rd, 2021

কবি আলহাজ্ব আজিজুর রহমান সহকারী শিক্ষক(অবঃ)

কবিতা,        (নদী ভাঙ্গন-২)সানন্দ বাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়।মোবাইলঃ ০১৭৪০-৮০০৮৮৮
   সানন্দবাড়ী প্রাণকেন্দ্র        বড় ঝুঁকির মুখে, অল্প দিনে হয়তো আঘাত        হানতে পারে বুকে। 
  যক্ষা রোগের প্রথম লক্ষণ          থাকে স্বল্প জ্বর, শুষ্ক কাশি ক্ষুধামন্দা          এসে করে ভর। 
  বল হারায়ে রোগী যখন         পড়ে আপন ঘরে, রাত জাগরণ কাঁশির সাথে        রক্ত আসে পরে। 
   ড্রেজার দিয়ে মাটির নিচে           তৈরি সুরুং পথ, তার উপরে হাসিখুশি       চলছে মোদের রথ। 
    বন্যা এলে স্রোতের টানে           পাড় যাবে খসে,   বালির লেয়ার সরে গেলে        বোল্ডার যাবে ধসে। 
   মাঠের ভিটার উজান হতে         ভাটি আলগার চর,  বন্যা এলে স্রোতের টানে         কুলায় কিনা ভর। 
  পুকুরপাড়ে বানের পানি           দেখে এলো ঘরে,  রাত বারোটায় চাল খসে         মাথার ওপর পড়ে। 
    কেহ বলে মরা নদী           এটা কেমন কাম,  বাড়ি গিয়ে আলাপ করে      বাড়বে জমির দাম। 
   মন্ডল পাড়া গ্রামের স্বজন,           তারা পুরান খেশি,    জমি কেনার লাগবে হিরিক          ভাঙ্গনী খুব বেশি। 
   নদী ভাঙ্গন মানুষগুলি          কখন কি যে খায়,   স্বল্প মূল্যে জমি খুঁজতে         রস জমেছে পায়। 
   আষাঢ় মাসে দিবারাতে          নামে পানির ঢল, গ্রামগুলি এককালে        ছিল নাভীস্থল। 
   মেয়ে দেখতে আসলে কেহ            ভাঙ্গাপাড়া বলে, জমা-জমি নদীর গর্ভে          পাত্রী সরস চলে।
   অনেক সময় মেয়ের পিতা           দেখতে আসে বর,   নদী ভাঙলে জামাই বাবা        কোথায় তুলবে ঘর? 
 হয়তো সেদিন মেয়ে সহ         উঠবে আমার বাড়ি, এই ভয়ে হবু-শ্বশুর       দূরে  জমায় পারি। 
  দেশের মানুষ স্বেচ্ছা শ্রমে        দিয়েছিল বাঁধ, ভেঙ্গে গেলেও চরাভূমির      খেলাম কিছু স্বাদ। 
   বিকেল বেলা পার দেখে          ফিরে আসে ঘরে, চাপের সাথে রক্তমাখা          কলিজা ছিঁড়ে পড়ে। 
   হঠাৎ করে বাতাস এলে           বড় বিপদ চাপে, দূরের জমির লিং শতাংশ        কঠিনভাবে মাপে। 
  কেহ বলে বাপ-চাচারা          ছিলনা বিজ্ঞানী?বন্যা আসার আগেই দেখি        ঘড়ে ওঠে পানি। 
  জমি বিক্রি করতে চাইলে          গ্রাহক মেলা ভার, ক্রেতা বলে জমি ভালো          কিন্তু নদীর পাড়।
    বিপদ বুজে  জমির মালিক        দূরে দেখায় যদি,  গ্রাহক বলে এক বছরে         আসবে সেথায় নদী।    
    তিন বিঘা ছেড়ে দিয়ে           হয়না কোন কাম,  বিক্রি করতে হলো তবুও        যেন পানির দাম।     
  বাবা মায়ের কবর খুঁজে         হারায় দেহে বল, সরণ হলে নদীর পাড়ে        ফেলে চোখের জল।    
  স্বজন এসে অনেক সময়         কেঁদে ফেরে রোজ,  বাড়ির ভিটা গভীর জলে         কে রাখে খোঁজ?       
   গাছপালা যাচ্ছে ভেসে         ভরা নদীর  বানে,ঢেয়ের সাথে দোলা দিয়ে       ভাটি স্রোতের টানে।      
  ঘর তোলার জায়গা দিলাম          বাড়ির দক্ষিণ পাশে,     সবাই বলে নদী নাকি         সাথেই নিয়ে আসে।    
  নদী ভাঙ্গন মানুষ দেখে     হৃদয়ে তাই ভয়, গরিব ভেবে নিলাম কাছে     কখন কি যে হয়।     
 এক লাখে কাঠা খানেক       আছেন অনেক সুখে,  কথা শুনে মানুষগুলির         শেল বেধে  বুকে।         কয়টি গ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ       দাঁড়ায় কোথায় গিয়ে, নদীর পাড়ে রইল পড়ে        হৃদয়ে ভয় নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপদেষ্টা মন্ডলীঃমোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন(হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
ডঃ দিলিপ কুমার দাস চৌঃ ( অ্যাডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট ঢাকা)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী ।।আইন সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আজির উদ্দিন (সেলিম)
নির্বাহী সম্পাদক: দিলুয়ার হোসেন।। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোছাঃ হেপি বেগম ।I বার্তা সম্পাদক: মোঃ ছাদিকুর রহমান (তানভীর)
প্রধান কার্যালয় ২/২৫, ইস্টার্ণ প্লাজা,৩য়-তলা ,আম্বরখানা সিলেট-৩১০০।
+8801712-783194 dailyhumanrightsnews24@gmail.com