Thu. Jan 21st, 2021

গুজব ঠেকাতে সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি চলছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি :মোঃ শামীম হাওলাদার, গলাচিপা পটুয়াখালী !
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, করোনা মাহমারির বর্তমান পরিস্থিতি ও শীত মৌসুমে সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
গুজব ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিবিড়ভাবে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, করোনা মাহমারির বর্তমান পরিস্থিতি ও শীত মৌসুমে সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ বিশ্ব মহামারিকে সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের একাধিক প্রশ্নের লিখিত জবাবে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে বদ্ধপরিকর। দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানসহ জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং জনগণের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিবা ও রাত্রীকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল যাতে গুজব, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে না পারে সে লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহ নিবিড়ভাবে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সব ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।সরকারি দলের সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নে জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, কোভিড-১৯ সারাবিশ্বে এক ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এক অজানা ভাইরাস দ্বারা বৈশ্বিক মহামারি ঘটবে বিজ্ঞানীগণ এ ধরনের আশঙ্কা করলেও সেটা যে এত দ্রুত গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং তা রোগতত্ত্বের প্রচলিত ব্যাকরণগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে- সেটা কারও ধারণাতেও ছিল না।তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ বিশ্ব মহামারিকে সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে কোভিড-১৯-এর প্রকোপ কিছুটা হলেও কমে এলেও যে কোনো মুহূর্তে তা আসন্ন শীতকালে আবার বেড়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকাতে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে।এ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান আরও জানান, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও শীতকালে সংক্রমণ বৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীন থেকে শুরু হওয়া করোনা মহামারির বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।তিনি বলেন, আসন্ন শীত মৌসুমে যাতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে না পারে সেজন্য ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি বাস্তবানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ প্রিপ্যারিডনেস এ্যান্ড রেসপন্স প্লান (বিপিআরপি)’ তৈরি করা হয়েছে এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। করোনার বর্তমান ও আসন্ন শীতকালে পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশব্যাপী গৃহীত কার্যক্রমের সমন্বয়ের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে ৬টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক গবেষণা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে গবেষণাকে উৎসাহিত করাসহ নতুন নতুন গবেষণা প্রকল্প আহ্বান করা হচ্ছে। গবেষণায় আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপন করা হয়েছে। গুজব ও ভুল তথ্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রমাণভিত্তিক তথ্যের সংকলন প্রচার নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং ভুল প্রতিবেদন প্রকাশ প্রতিরোধে ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।সংসদ নেতা জানান, যে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমাজ থেকে নির্মূল করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধ ও জড়িতদের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে জনসাধারণ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, যাতে সহজে আইন সহায়তা পেতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবেলায় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ১০৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রদান করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে তৈরি পোশাক খাতের জন্য অর্থ সহায়তা পাওয়া গেছে। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মানির কাছ থেকে তৈরি পোশাক ও চামড়া শিল্পের জন্য ১১৬ মিলিয়ন ইউরোর প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। এছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আইআইবি ব্যাংক বাংলাদেশের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে।সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন নোয়াখালী জেলা বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার চকপোড়াগাছা গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে সর্বপ্রথম ভূমিহীন-গৃহহীন অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রদান করেন। জাতির পিতার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ভূমিহীন-গৃহহীন-অসহায় পরিবার পুনর্বাসনের কার্যক্রম শুরু হয়।তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হলেও এ দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাসস্থান নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে এ ধরনের ঘোষণা ও কর্মসূচি বিশ্বের আর কোনো সরকার প্রধান এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেননি। মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না- এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সমাজের সম্পন্ন ব্যক্তিদের অনুরোধ করব তারা যদি সবাই অন্তত একটি বাড়ি অসহায় পরিবারের জন্য নির্মাণ করে দেয় তবে মুজিব শতবর্ষে যেমন দেশে একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবে না, তেমনি সবাই মিলে আমরা নির্মাণ করব এক মানবিক ‘সোনার বাংলা’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপদেষ্টা মন্ডলীঃমোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন(হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
ডঃ দিলিপ কুমার দাস চৌঃ ( অ্যাডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট ঢাকা)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী ।।আইন সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আজির উদ্দিন (সেলিম)
নির্বাহী সম্পাদক: দিলুয়ার হোসেন।। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোছাঃ হেপি বেগম ।I বার্তা সম্পাদক: মোঃ ছাদিকুর রহমান (তানভীর)
প্রধান কার্যালয় ২/২৫, ইস্টার্ণ প্লাজা,৩য়-তলা ,আম্বরখানা সিলেট-৩১০০।
+8801712-783194 dailyhumanrightsnews24@gmail.com