Thu. Jun 17th, 2021

অপসংস্কৃতির বেড়াজালে বিয়ে!

এম এ বাছিত আশরাফ :

বিয়ে মানব জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে । বিয়ে ব্যতিত মানব জীবনের সুস্থ, সুন্দর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব নয় । মানব সভ্যতা বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে ইসলাম, তাই ইসলাম ধর্মে বিবাহ হচ্ছে একটি গুরুত্ব পূর্ণ বিধান। বিবাহ মহান আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ নেয়ামত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। ঈমানের পূর্ণতার সহায়ক। চারিত্রিক আত্মরক্ষার অনুপম হাতিয়ার। যুবক-যুবতীর চরিত্র গঠনের অন্যতম উপাদান। আদর্শ পরিবার গঠন, মানুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ এবং মানসিক প্রশান্তি লাভের প্রধান উপকরণ হচ্ছে বিবাহ। যা প্রত্যেক মানুষের স্বভাবজাত চাহিদা। এ চাহিদা পূরণার্থেই ইসলামি শারিআত বিয়ের হুকুম আরোপ করেছে। মানবজাতিকে লিভ-টুগেদারের মতো মহাঅভিশাপের হাত থেকে রক্ষা করতে বৈধভাবে যৌন চাহিদা পূরণের জন্যই মহান রাব্বুল আলামিন বিবাহের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাপ্ত বয়স্ক ও সামর্থ্যবান হলে কালবিলম্ব না করে বিবাহ করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। বিয়ে শুধু জৈবিক চাহিদাই নয়, বরং একটি মহান ইবাদতও বটে। বিবাহ দ্বারা ইহ ও পরকালীন কল্যাণ সাধিত হয়। বিবাহ মানুষের জীবনকে পরিশীলিত, মার্জিত এবং পবিত্র করে তোলে। বিবাহ মানুষের জীবনকে মার্জিত এবং পবিত্র করে তোলে। আদর্শ পরিবার গঠন, জৈবিক চাহিদা পূরণ, মানসিক প্রশান্তি ও মানব বংশ বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম হলো বিবাহ। মহান রাব্বুল আলামিন কুরআন কারিমে ইরশাদ করেন “অর্থাৎ ‘আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (৩০:২১)
আল্লাহ অন্যত্র ইরশাদ করেন “অর্থাৎ ‘তারা (স্ত্রীগণ) তোমাদের পোশাক এবং তোমরা (স্বামীগণ) তাদের পোশাকস্বরূপ`। (২:১৮৭)

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন বিবাহ হচ্ছে ঈমানের অর্ধেক। আর বিবাহ হচ্ছে প্রিয় নবীর অপরিসীম গুরুত্ববহ সুন্নত। বিবাহের মাধ্যমে মানুষের জীবনে আসে নিয়ন্ত্রণ, শান্তি ও শৃঙ্খলা।
অন্য হাদীসে মুবারকায় তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিবাহ করা কর্তব্য। কেননা বিবাহয় দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারী। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন সিয়াম (রোজা) পালন করে। কেননা সিয়াম হচ্ছে যৌবনকে দমন করার মাধ্যম। (বুখারি, নিকাহ অধ্যায়)

ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক স্থাপনে বিয়েই হচ্ছে একমাত্র পবিত্র মাধ্যম। বিবাহ একটি ধর্মীয় বিধান, কিন্তু মানবজাতীর জন্য আল্লাহর এই বিধান এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত ও সাহাবায়ে কিরামের বরকতময় আদর্শ মধ্যে আজ আমরা বিভিন্ন অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে পবিত্র এই অনুষ্ঠানকে কলুষিত করে যাচ্ছি। আমাদের সমাজে বা দেশে প্রচলিত যেসব প্রথা নগ্ন ও নোংরা এবং ধর্মীয় দৃষ্টিতে হারাম সেগেুলোকে আমরা দ্বিধাহীন চিত্তে গ্রহণ করছি। সেই বিজাতীয় অপসংস্কৃতিকে যেখানে ঘৃণাভরে বর্জন করা উচিৎ সেখানে আমরা জামাই আদর করে সেই সংস্কৃতিকে আপন করে ঘরে তুলছি ।
আমাদের নেই কোন দায়বদ্ধতা, নেই পরকালের কোন ভয়ভীতি!!

বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে যে সব অপসংস্কৃতি প্রবেশ করেছে তা আমরা অনেকেই জানি না বা জানার চেষ্টা ও করিনা!
এই পবিত্র কর্ম পালন করতে গিয়ে মাঝে মাঝে কিছু কু-প্রথা পালন করা হয়। যা আমাদের সমাজিক ও পরিবারিক অবকাঠামোকে ধবংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে । যৌতুক, নগ্ন গান বাজনা করা ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি, কিন্তু সচেতনতার অভাবে বর্জন করিনা। এগুলো ছাড়া আরোও কিছু কুপ্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে, যা আমাদের জন্য বর্জন করা একান্তই প্রয়োজন । আমাদের মুসলিম সমাজে প্রচলিত বিয়ে সংক্রান্ত কিছু অপসংস্কৃতি যা আমাদের পরিহার করা উচিত। যেমন:

১: কন্যা বা পাত্রী দেখাঃ কন্যা বা পাত্রী দেখার ব্যাপারে পাত্র বা বরের অধিকার অগ্রগণ্য । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে নিজের চোখে পাত্রী দেখে পছন্দ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সমাজে দেখা যায় আত্মীয় স্বজন (পরপুরুষ) সবাই মিলে কন্যা দেখতে যায় কিন্তু যে বিবাহ করবে তার কোন খোজই নাই।

২: উকিল বাপ বানানোঃ বিয়ের দিনে উকিল বাপ ও সাক্ষী দিয়ে মেয়ের অনুমতি নেয়ার প্রথা আমাদের দেশের অনেক জায়গায় প্রচলিত। প্রকৃতপক্ষে মেয়ের অনুমতি নেওয়ার দায়িত্ব তার অবিভাবকের। তাই বাইরের (পরপুরুষের) কোন লোক, ওকিল বা সাক্ষী ইত্যাদি ইসলাম সম্মত নয়।

৩: কবুল বলার পর মাটিতে স্পর্শ করে সালাম করা: আমাদের দেশে আরেকটি প্রথা হলো কবুল বলার পর মাটিতে স্পর্শ করে সবাইকে সালাম করা। আসলে শব্দটি সালাম নয় বরং কদমবুচি, আর কদমবুচি মা বাবা বা যাদের সাথে বিবাহ হারাম শুধু সেইসব গুরুজনদের করাই মুস্তাহাব । বিয়ের অনুষ্ঠানে সলামের নামে মাটি স্পর্শ করে এভাবে সালাম দেয়ার প্রথা ইসলামে নেই বরং এটা অপসংস্কৃতি ।

৩: বিয়ের মোহরানা: লোক দেখানোর জন্য বিয়ের মোহরানা নির্ধারন করা বা বরপক্ষকে চাপ দিয়ে রাজী করানো শরীয়ত সম্মত নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নগদ মোহরানা দিয়ে বিয়ে করেছেন বা সাহাবীদের সাধ্যমতো মোহরানা দেয়ে বিয়ে পড়িয়েছেন।

৪: বিয়ের অনুষ্ঠান: আমাদের দেশের প্রচলিত বিয়ের অনুষ্ঠানে যে সব অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে তার মধ্যে অন্যতম:
(ক): এ্যংগ্যাজমেন্টের সময় আংটি দেয়া (ইজাব কবুলের পুর্ব পর্যন্ত একে অপরকে স্পর্শ করা হারাম) ।

(খ): পটকা-আতশবাজি, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা, রংবাজী করা বা নারী পুরুষ মিলে রঙ ছড়াছড়ি করা।

(গ): বরের ভাবী ও অন্য যুবতী মেয়েরা বরকে সমস্ত শরীরে হলুদ মাখিয়ে নির্লজ্জের মতো গোসল করিয়ে দেওয়া ।

(ঘ): বর ও কনেকে হলুদ বা গোসল করতে নিয়ে যাওয়ার সময় মাথার উপর বড় চাদর এর চার কোনা চার জনের ধরা ।

(ঙ): বিবাহ করত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপদেষ্টা মন্ডলীঃমোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন(হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
ডঃ দিলিপ কুমার দাস চৌঃ ( অ্যাডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট ঢাকা)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী ।।আইন সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আজির উদ্দিন (সেলিম)
নির্বাহী সম্পাদক: দিলুয়ার হোসেন।। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোছাঃ হেপি বেগম ।I বার্তা সম্পাদক: মোঃ ছাদিকুর রহমান (তানভীর)
প্রধান কার্যালয় ২/২৫, ইস্টার্ণ প্লাজা,৩য়-তলা ,আম্বরখানা সিলেট-৩১০০।
+8801712-783194 dailyhumanrightsnews24@gmail.com