Wed. Jun 23rd, 2021

ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভের অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছেন যেসব ফিলিস্তিনি নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আন্দোলনে
রোসা পার্কসের মত নারীরা যথেষ্ট
ভূমিকা রেখেছিলেন। তার মত নারীদের
ভূমিকায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিক্ষোভকারীরা
পুলিশ এবং সেনাদের সাথে সংঘর্ষে
জড়াতেও দ্বিধা বোধ করে নি।

ইসরাইল সরকারের বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণের
বিরুদ্ধে আন্দোলনেও নারীদের যথেষ্ট
ভূমিকা রয়েছে। দেশটির সরকার
বিচ্ছিন্নতাবাদী রয়েছে এমন প্রচারণা
চালিয়ে ইসরাইলে সংখ্যালঘুদের উৎখাত
করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনি জনগণের উপর ইসরাইলের
নিপীড়নের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি তিনজন
নারী নাগরিক অধিকার আন্দোলনের
প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা হচ্ছেন-
রাজান আল-নাজার(২১), আহেদ তামিমি
(১৭) এবং লারা আল-কাসেম(২২)। এদের
মধ্য একজনকে ইতোমধ্যে ইসরাইলি বাহিনী
হত্যা করেছে আর অপর দুজনকে বার বার
কারাদন্ড ভোগ করতে হয়েছে।

চলতি বছরের জুন মাসের ১ তারিখে
ফিলিস্তিনি সেবিকা আল-নাজার যিনি
ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে গিয়ে
আহতদের সেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন, অতি
উচ্চ-মানের একটি স্নাইপার রাইফেল
হাতে একজন ইসরাইলি সেনা তার গতি
রোধ করে রাখে। তাদের দুজনের
বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ইসরাইলি
হানাদারটি আল-নাজারের বুকে গুলি
চালিয়ে তাকে সেখানেই শহিদ করে দেয়।
আল-নাজার হত্যার প্রতিবাদে
হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি
বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল যাদের উপর
ইসরাইল সরকার পানি, বিদ্যুৎ এবং খাদ্য
অবরোধ আরোপ করে রেখেছিল। ওই
বিক্ষোভে অন্তত ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত
হয় এবং হাজারেরও অধিক
ফিলিস্তিনিকে কারাগারে আটক করে
রাখা হয়।

আল-নাজারের সাথে একাত্মতা প্রকাশ
করতে বিক্ষোভাকারীগণ লাল রংয়ের
হিজাব পরিধান করে বিক্ষোভে অংশ
নিয়েছিল। আল-নাজার ইসরাইলি
হানাদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে একজন
প্রতিকে পরিণত হয়েছেন।

আহেদ তামিমি ২০০১ সালে ইসরাইলের
রামাল্লা শহরের অদূরে নাবি সালেহ
নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার
পিতামাতা জানিয়েছেন, তাদের মেয়ে
সেই ছোট বেলা থেকেই ইসরাইলি
হানাদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং
ভবিষ্যতে তামিমি একজন আইনজীবী হতে
চায়।

২০১২ সালে যখন তামিমির বয়স ১১ বছর,
সেইসময় একদিন ইসরাইলি সেনারা তার
মাকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা করলে
তামিমি তাদের এমন অত্যাচারের
বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। এর পর থেকেই
তামিমি ইসরাইলের বিরুদ্ধে একটি
প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠে এবং
আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসা
অর্জন করেন। এমনকি ফিলিস্তিনি
প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং তুর্কি
প্রেসিডেন্ট এরদোগান তামিমির
প্রশংসা করেন।

এর চার বছর পর তামিমিকে ‘No Child Behind
Bars/Living Resistance’ শিরোনামে একটি
প্রতিবাদী সভায় বক্তব্য দিতে
যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
কিন্তু সে সময়কার বারাক ওবামা সরকার
ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা কল্পে
তামিমিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে
দেয় নি।

২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র
সরকার জেরুজালেমকে ইসরাইলের
রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে অবরুদ্ধ
গাজাবাসী ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে
পড়ে। নাবি সালেহতে অবস্থিত তামিমির
বাড়ির পাশেই একটি বিক্ষোভে ইসরাইলি
হানাদারগণ বেশ কিছু বিক্ষোভকারীর
উপর মারাত্মক হামলা চালায়। তামিমি এর
প্রতিবাদে তার বাড়ির সামনেই ইসরাইলি
সেনাদের সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়ায় এবং
তাদেরকে সেখান থেকে চলে যাওয়ার
জন্য আহ্বান জানায়। কিন্তু ইসরাইলি
সেনারা তার কথায় কর্ণপাত না করলে
তামিমি একজন হানাদারের গালে চড়
বসিয়ে দেয়। এ দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও
সে সময় সোশ্যাল মিড়িয়ায় ব্যাপক
আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

এর পরদিনই ইসরাইল সরকার তামিমিকে
গ্রেপ্তার করে এবং প্রায় আট মাস
কারাগারে আটক রাখে। তামিমি চলতি
বছরের জুন মাসের ২৯ তারিখে মুক্তি লাভ
করে।

আল-কাসেম নামক ২২ বছর বয়সী
শিক্ষার্থী যার বাবা একজন
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের
নাগরিক, তিনি একটি বৈধ স্টুডেন্ট ভিসা
নিয়ে চলতি বছরের অক্টোবর মাসের ২
তারিখে ইসরাইলে অধ্যয়ন করতে আসেন।
ইসরাইলে প্রবেশ করা কালীন আল-
কাসেমকে ইসরাইলের বেন গুরিয়ান বিমান
বন্দরে আটক করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে
ইসরাইল বিরোধী কর্মকাণ্ড জড়িত থাকার
অভিযোগ এনে তাকে বিচারের মুখোমুখি
করা হয়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আল-কাসেম
ইসরাইল সরকারের এমন আচরণের বিরুদ্ধে
আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইসরাইল সরকার প্রতিনিয়তই এভাবে সকল
ফিলিস্তিনি নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক
আচরণ করে আসছে। এমনকি একজন
ইসরাইলি লেখক প্রশ্ন করে বলেন, কেন
আল-কাশেমের চোখের রং নীল?
জেরুজালেম পোস্ট আল-কাশেমের ইসরাইল
বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার জন্য
তামিমির আদর্শিক লড়াইকে দায়ী
করেছে।

আল-নাজার নামে সেবিকাকে হত্যার
পরে ইসরাইল সরকার জানিয়েছে, ভুলক্রমে
এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু পরবর্তীতে
ইসরাইল সরকার দাবী করে যে, আল-নাজার
নিজেকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার
করতে চেয়েছিল আর সে জন্যই আত্মরক্ষার
স্বার্থে তাকে গুলি করা হয়েছে।
এমনকি লেবাননে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত
মার্ক রেগেভ বলেছিলেন, আল-নাজার
হামাস গোষ্ঠীর একজন সন্ত্রাসী নারী
ছিল।

উপরে বর্ণিত নারীরা তাদের প্রতিবাদের
মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের উপর
অবিশ্বাস্য প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম
হয়েছেন এবং তাদের প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ
হয়ে হাজারো ফিলিস্তিনি ইসরাইলের
দমন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে জীবন বাজী
রেখে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন।

সূত্রঃ আরব নিউজ ডট কমে প্রকাশিত
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের
পুরস্কার বিজয়ী কলাম লেখক রাই
হানানিয়া এর কলাম থেকে, যিনি ‘Yalla!
Fight Back’ নামের বই লিখে ব্যাপক সমাদৃত
হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপদেষ্টা মন্ডলীঃমোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন(হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
ডঃ দিলিপ কুমার দাস চৌঃ ( অ্যাডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট ঢাকা)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী ।।আইন সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আজির উদ্দিন (সেলিম)
নির্বাহী সম্পাদক: দিলুয়ার হোসেন।। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোছাঃ হেপি বেগম ।I বার্তা সম্পাদক: মোঃ ছাদিকুর রহমান (তানভীর)
প্রধান কার্যালয় ২/২৫, ইস্টার্ণ প্লাজা,৩য়-তলা ,আম্বরখানা সিলেট-৩১০০।
+8801712-783194 dailyhumanrightsnews24@gmail.com