Mon. Jan 27th, 2020

তিন সপ্তাহ ধরে উৎপাদন বন্ধ ছাতক সিমেন্ট কোম্পানিতে

ছাতক প্রতিনিধি :: জোড়াতালি দিয়েও সচল রাখা যাচ্ছে না বিসিআইসি’র নিয়ন্ত্রনাধীন দেশের প্রথম রাষ্ট্রয়াত্ত্ব সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি।

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার কারণে প্রতিদিন লক্ষ-লক্ষ টাকার ক্ষতি গুনতে হচ্ছে কারখানা কর্তৃপক্ষকে। প্রতিষ্ঠানটাকে স্বচ্ছল করতে দফায় দফায় কয়েকশো কোটি টাকা ব্যয় হলেও লাভের মুখ দেখেনি।

তার ওপর রয়েছে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ। অথচ ছাতক সিমেন্ট কারখানার পাশেই বহুজাতিক বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কোম্পানি প্রতিবছরই বিশাল অংকের মুনাফা গুনছে।

১৯৩৭ সালে সুনামগঞ্জের ছাতকে আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট ফ্যাক্টরি নাম নিয়ে স্থাপিত হয় এই কোম্পানিটি। ১৯৬৫ সনে পাক-ভারত যুদ্ধের পর ব্যক্তি মালিকানা কর্তৃক কারখনাটি পরিত্যক্ত হলে ১৯৬৬ সন থেকে কারখানা ইপিআইডিসি’র নিয়ন্ত্রনে আসে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কারখানাটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি।

প্রথমে বিএমওজিসি, পরে বিএমইডিসি এবং সর্বশেষ ১৯৮২ সালের পহেলা জুলাই থেকে বিসিআইসি’র নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

ভিজা পদ্ধতিতে সিমেন্ট উৎপাদনে এখনও দেশসেরা এই ফ্যাক্টরি। তবে শুষ্ক পদ্ধতিতে সিমেন্ট উৎপাদনের চেয়ে এই কারখানায় সিমেন্ট উৎপাদনে খরচ বেশি। পাশাপাশি যন্ত্রাংশের ক্ষয়ের হার বেশি। তাই ছোটখাটো মেরামতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে উৎপাদন বন্ধ হচ্ছে বারবার। বছর বছর বাড়ছে লোকসানের বোঝা। বর্তমানে কারখানার চারটি ইউনিটই এখন বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে।

ছাতক সিমেন্ট কারখানা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ টন। কিন্তু এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ২০০-২৫০ টন। কারখানটির আধুনিকায়নে ২০১১ সালে ব্যালান্সিং মর্ডানাইজেশন রেনোভেশন অ্যান্ড এক্সপানশন (বিএমআরই) প্রকল্প গ্রহণ করে বিসিআইসি।

নতুন এ প্রকল্পের মাধ্যমে শুকনো পদ্ধতিতে বছরে তিন লাখ টন ক্লিংকার উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি আধুনিক যন্ত্র স্থাপন এবং ক্লিংকার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও চুনাপাথর বহনের রজ্জুপথ সংস্কার করে এটিকে আরো বেশি করে মালামাল বহনের উপযোগী করে তোলার কথা ছিল।

প্রকল্প প্রস্তাব উত্থাপনের প্রায় পাঁচ বছর পর ২০১৬ সালে এর অনুমোদন দেয় একনেক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির বছরে অন্তত ৭৬ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, মূল কারখানায় স্থাপিত ৪ টি সিমেন্ট মিলের মাধ্যমে সিমেন্ট উৎপাদন করা হতো। ইতিমধ্যে দুটি সিমেন্ট মিল ৫০৪, ৫১৬ অকেজো হয়ে পড়ায় দু’বছর ধরে অন্য দুটি মিল মেরামতের মাধ্যমে কারখানার উৎপাদন সচল রাখা হয়েছিল।

এরমধ্যে একমাস আগে ৫১০ মিলটি বিকল হয়ে পড়লে ৫২১ মিল  দিয়েই কারখানায় নামে মাত্র উৎপাদন হতো। বর্তমানে এ মিলটিও অকেজো হওয়ায় কারখানায় সম্পূর্ণরূপে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে।

কারখানার শ্রমিকদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ইউনিট চারটি একাধিকবার মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু সঠিকভাবে সংস্কার না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা কাজে আসেনি।

ছাতক সিমেন্ট কারখানা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ জানান, এখন কোনো কারখানাই আর ওয়েট প্রসেসে চলে না। এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। তাই কারখানাকে লাভজনক করতে দ্রুত ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরিত করতে হবে।

এ বিষয়ে ছাতক সিমেন্ট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামলেন্দু দত্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এবং এটি প্রায়ই হয়ে থাকে বলে এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা বলে জানান।

কারখানা কর্তৃপক্ষ কোন বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক  জানান নতুন পরিকল্পনার কথা।

সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, এটা আধুনিক সিমেন্ট কারখানার গড়ার পরিকল্পনা সরকার গ্রহন করেছে। এই এলাকার ঐহিহ্য এই সিমেন্ট কারখানাকে এক সময় পানির দামে বিক্রির পায়তারা চলছিলো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকার বারবার ভুতুর্কি দিয়ে এটিকে সচল রাখছে।

উৎপাদন কার্যক্রমকে ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরের প্রকল্পটির সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে এখন ওয়ার্ক অর্ডারের অপেক্ষায় আছে। দ্রুতই এ ওয়ার্ক অর্ডার হবে। আধুনিকায়ন সম্পন্ন হলে বিসিসিআইসির একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসাবে এটি আত্মপ্রকাশ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপদেষ্টা মন্ডলীঃমোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন(হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
ডঃ দিলিপ কুমার দাস চৌঃ ( অ্যাডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট ঢাকা)
রজত কান্তি চক্রবর্তী সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী ।।আইন সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আজির উদ্দিন (সেলিম)
নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তাক আহমদ।। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ দিলোয়ার হোসেন ।I মহিলা সম্পাদক: মোছাঃ হেপি বেগম ।I বার্তা সম্পাদক: .........................
প্রধান কার্যালয় ২/২৫, ইস্টার্ণ প্লাজা,৩য়-তলা ,আম্বরখানা সিলেট-৩১০০।
+8801712-783194 ... 01304006014 dailyhumanrightsnews24@gmail.com
JS security