Tue. Oct 20th, 2020

নতুন প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নিতে পারায় রংপুরে প্রেমিকাসহ দু’বোনকে হত্যা প্রেমিকের

রাশেদ হোসেন রাব্বঃ রংপুরে চাঞ্চল্যকর দু’বোন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। মামাতো ভাইয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠার কারণে পুরাতন প্রেমিক রিফাত সুমাইয়া আক্তার মীম ও মীমের বোন জান্নাতুল মাওয়াকে হত্যা করে। এ ঘটনায় মীমের কাছে থাকা রিফাতের লেখা চিঠি, ডায়েরী, মীম ও রিফাতের একাধিক মোবাইল ফোন, সীমকার্ড, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কাচ, ওড়নাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার আদালতে রিফাত স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিলে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

রোববার রাত ৮টায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, রংপুর নগরীর গণেশপুর এলাকার বাসিন্দা মোকসেদুল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার মীমের (১৭) সাথে ৫ বছর আগে নগরীর মধ্য বাবুখাঁ এলাকার এমাদুল ইসলামের ছেলে মাহফুজুর রহমান রিফাতের (২০) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন ধরে ভাব বিনিময় হলেও সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে ছেদ পড়ে। প্রেমিক রিফাত জানতে পারে সুমাইয়া তার মামাতো ভাইয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে। এ ক্ষোভ রিফাতের মনে বাড়তে থাকলে সে মীমকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে এবং মীমের সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ রাখে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মীমের সাথে দেখা করতে চায় রিফাত। এ সময় মীমের চাচাতো বোন জান্নাতুল মাওয়া (১৪) তাদের বাড়িতে আসতে বলে এবং চাচা-চাচী কুড়িগ্রামে আছে জানায়। এ কথা জানার পর রিফাত আসরের নামাজের পর লাহিড়ীরহাটে তার বন্ধু আরিফুল ইসলাম আরিফের বাসায় গিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সে তার ব্যবহৃত মোবাইল সেট ও সিম কার্ড আরিফের কাছে রেখে বন্ধুর মোবাইল ফোন ও অন্য আরেকটি সিম কার্ড নিয়ে এশার নামাজের পর মীমের বাড়ির কাছে এসে তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় মীম সুযোগ বুঝে ঘরের বাহিরের লাইট বন্ধ করে প্রায় রাত ৮টার দিকে চাচার বাড়িতে রিফাতকে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। রিফাত ও মীম একটি ঘরে ও অপর ঘরে চাচাতো বোন জান্নাতুল মাওয়া অবস্থান করে। রিফাত যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবন করে মীমকে ধর্ষণ করে। এরপর সে মীমকে মোবাইল ফোনের ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারে অন্য বন্ধুর সাথে কেন যোগাযোগ করে সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে মীম এর সাথে তার মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।

তখন মীম বলে, তুমি আমার সাথে যা করেছো আমার অপর বন্ধু তাই করেছে। এই কথা শোনা মাত্রই মীমকে সু-কৌশলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যা ও ধর্ষনের বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তাৎক্ষনিক ভাবে মীমের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রাখে এবং বিছানার উপর থাকা সিলিং ফ্যান এর দুইটি পাখা নিচের দিকে বাঁকা করে রাখে। মীমের অবস্থান করা ঘরটি বাহিরে থেকে তালা লাগানো থাকায় রিফাত হত্যার পর জান্নাতুল মাওয়ার ঘর দিয়ে বেরিয়ে যেতে চেষ্টা করে।

এ সময় জান্নাতুল মাওয়া রিফাত কোথায় যাচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে বেকায়দায় পড়ে রিফাত। পাশের ঘরে মাওয়া ঢুকে মীমকে ঝুলন্ত অবস্থায় যেন দেখে না ফেলে সেজন্য তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রুমের মেঝেতে ফেলে রাখে। জান্নাতুল মাওয়া হত্যার বিষয়টিও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে হত্যার পর তার গলায় আয়নার কাঁচ দিয়ে কেটে গুরুতর জখম করে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি থাকায় হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়ে সহজে পালিয়ে যায় রিফাত।

সে নিজ বাড়ীতে না গিয়ে পুনরায় লাহিড়ীরহাটে তার বন্ধু আরিফুল ইসলামের বাড়ীতে যায়। সেখানে যাওয়ার পর বন্ধু আরিফের সাথে এই বিষয়ে কথাবার্তা বলে এবং সে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি তার বন্ধুর নিকট ফেরত দেয় এবং বন্ধুর নিকটে রাখা তার মোবাইল ফোনটি ফেরত নিয়ে বন্ধুর বাড়ীতেই রাত্রীযাপন করে। পরবর্তীতে মীম ও মাওয়ার মৃত্যুর বিষয়টি জানার পর শুক্রবার আরিফুল রিফাতকে নিজ বাড়িতে রেখে আসে।


সংবাদ সম্মেলনে আবু মারুফ হোসেন আরও জানান, রিফাতকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডের ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সীমকার্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। তার দেয়া তথ্য মতে, আরিফুলের কাছ থেকে রোববার বিকেল পৌনে ৪টায় মীমের চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন ও রিফাতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এদিকে মীমের চাচা ৩টি বিয়ে করায় তার মা জান্নাতুল মাওয়ার বাড়িতে মেয়েকে যেতে নিষেধ করে। কিন্তু রিফাতকে কথা দেয়ার কারণে সে মায়ের সাথে ঝগড়া করে জান্নাতুল মাওয়ার বাড়িতে যায় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহিদুল্লাহ কাওসার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) উত্তম প্রসাদ পাঠক, কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর রশিদ, এসআই মজনু মিয়া, রফিকসহ অন্যরা।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নগরীর গণেশপুর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে জান্নাতুল মাওয়া (১৪) ও চাচাতো বোন সুমাইয়া আক্তার মীমের (১৭) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় জান্নাতুল মাওয়ার বাবা মমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে শনিবার রিফাতকে মধ্য বাবুখাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয়। সুমাইয়া আক্তার মীম খলিফাটারী মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী ও জান্নাতুল মাওয়া বীরমুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়তেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপদেষ্টা মন্ডলীঃমোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন(হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
ডঃ দিলিপ কুমার দাস চৌঃ ( অ্যাডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট ঢাকা)
রজত কান্তি চক্রবর্তী সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী ।।আইন সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আজির উদ্দিন (সেলিম)
নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তাক আহমদ।। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ দিলোয়ার হোসেন ।I মহিলা সম্পাদক: মোছাঃ হেপি বেগম ।I বার্তা সম্পাদক: .........................
প্রধান কার্যালয় ২/২৫, ইস্টার্ণ প্লাজা,৩য়-তলা ,আম্বরখানা সিলেট-৩১০০।
+8801712-783194 ... 01304006014 dailyhumanrightsnews24@gmail.com
JS security