Wed. Jun 3rd, 2020

চিকিৎসা না দিলে মামলা করা যাবে ডাক্তার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

অ্যাডভোকেট এম এ সালেহ চৌধুরী

বর্তমানে করোনার কারণে হাসপাতালে রোগী ভর্তিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক হাসপাতালেই রোগীদের ভর্তি নিতে অনীহা প্রকাশ করছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি করোনা সন্দেহে চিকিৎসা না পেয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন  হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কোথায় ভর্তি করা হয়নি।
চিকিৎসা অভাবে মৃত্যু বরণ করছেন অনেক রোগী। এ অবস্থায় বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ডাক্তার বা হাসপাতালের বিরুদ্বে আইনগত কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় বা আইন কি বলে নিম্নে তা আলোচনা করা হলো।

১. চিকিৎসা সেবা পাওয়া যে কোন নাগরিকের অধিকার। কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া খুবই দুঃখজনক বিষয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিএমডিসিসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিৎ। আর ভুক্তভোগীরাও এ ক্ষেত্রে বিএমডিসিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিতে পারবেন।

২. এছাড়াও ডাক্তাররা রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা অবহেলা করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ম্যাডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরি অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ অনুযায়ী তদন্ত করবে। ১১ ধারা অনুযায়ী তদন্ত করে ১৩ ধারার বিধান মতে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন।

৩. তদুপরি কারো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘতি হলে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন। সেইসঙ্গে বিএমডিসি অভিযোগের প্রমাণ পেলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অ্যাক্ট-২০১০ অনুযায়ী ডাক্তারের লাইসেন্স বাতিল করতে পারে। চিকিৎসায় অবহেলা করলে দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় মামলা করা যাবে। এছাড়া ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণের জন্য সিভিল কোর্টে এবং ২০০৯ সালের ভোক্তা অধিকার আইনেও অভিযোগ দায়ের করতে পারবে বলে জানান তিনি।

৪. বর্তমান অবস্থায় বিভিন্ন দেশে অবসরে যাওয়া চিকিৎসকরাও রোগীদের সেবায় এগিয়ে এসেছেন। সরকারের কথা না শুনলে ডাক্তারদের নেতারা এসময় ভূমিকা রাখতে পারে। আর ডাক্তাররা চিকিৎসা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে বিএমডিসিতে অভিযোগ দেয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া যাবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবারই উচিৎ এগিয়ে আসা।

৫. আরও বাংলাদেশ  সংবিধানের ১৫ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা পাওয়া নাগরিকের অধিকার। যা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কোন ডাক্তার যৌক্তিক কারণ ছাড়া চিকিৎসা সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ম্যাডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সুযোগ রয়েছে। বিএমডিসি অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারেন। এছাড়া সিভিল কোর্ট এবং ভোক্তা অধিকার আইনেও ক্ষতি পূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ডাক্তারদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে।

লেখক
এম এ সালেহ চৌধুরী
অ্যাডভোকেট
জজ কোর্ট, সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপদেষ্টা মন্ডলীঃমোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন(হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
ডঃ দিলিপ কুমার দাস চৌঃ ( অ্যাডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট ঢাকা)
রজত কান্তি চক্রবর্তী সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী ।।আইন সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আজির উদ্দিন (সেলিম)
নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তাক আহমদ।। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ দিলোয়ার হোসেন ।I মহিলা সম্পাদক: মোছাঃ হেপি বেগম ।I বার্তা সম্পাদক: .........................
প্রধান কার্যালয় ২/২৫, ইস্টার্ণ প্লাজা,৩য়-তলা ,আম্বরখানা সিলেট-৩১০০।
+8801712-783194 ... 01304006014 dailyhumanrightsnews24@gmail.com
JS security