Sun. Sep 20th, 2020

আন্দোলন- সংগ্রামে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ.

কায়েস মাহমুদ চৌধুরী “কর্মই সার, অমর- অক্ষয় কর্মেই পরিচয় কর্মের গুণেই আশরাফ আতরাফ কর্মই আনে বিজয়।” ধূলার এ জমীন তার সকল স্বচ্ছতা আকর উদারতার দৃষ্টান্ত রাখে তার বুকে আল্লাহর বিশেষ নিয়ামতপ্রাপ্তদের স্মরণে রেখে। সময়ের প্রয়োজনে এই পৃথিবীতে আল্লাহ পাক তার অনেক ওলী আউলিয়াদের বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করেছেন। যারা ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া হিসেবে সে সব দায়িত্ব  আঞ্জাম দিয়েছেন। তেমনি এক আলোকুজ্জ্বল কর্মবীর, সুন্নিয়াতের পথপ্রদর্শক, উম্মাহর দূর্দিনে ত্রাণকর্তা, হেদায়াতের দিশারী ছিলেন শামসুলউলামা, রাঈসুলকুররা ওয়াল মুফাসসিরিন আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ.। যিনি দ্বীন ও আকিদার চরম দূঃসময়ে হাতে তুলে নেন সুন্নিয়াত ও হেদায়াতের ঝাণ্ডা। আর তা হবেই বা না কেনো?! তিনি যে মিশনের উত্তরাধিকার তা যে বড়ই মকবুল, বড়ই সম্মানের। তার তরিকার বুযূর্গানে কেরামগণও জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন ইসলাম, মুসলিম আর সহীহ আকিদার প্রচার- প্রসার ও বাস্তবায়নে।  সেই সাথে আন্দোলন – সংগ্রাম, আর তাগুতের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন জীবনভর। ইতিহাস যার প্রমাণ বহন করে নির্দ্বিধায়। মুজাদ্দেদী তরিকার প্রবর্তক হযরত আল্লামা মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহ. তার সমকালীন গুমরাহ শাসক সম্রাট আকবরে বিকৃত মস্তিষ্কের মল, খোদাদ্রোহী মতবাদ দ্বীন ই এলাহীর বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন। চিশতিয়া তরিকার প্রবর্তক শায়েখ আল্লামা মঈন উদ্দিন চিশতী রহ. জালিম হিন্দু শাসক পৃত্থিরাজের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন। নকশবন্দিয়া তরিকার প্রবর্তক বুযূর্গ আল্লামা বাহা উদ্দিন নকশবন্দি রহ. ভারতের জমীনে দ্বীনের হাকীকাত প্রচার ও প্রসারে মারিফাতের জিহাদ করেছেন। মুহাম্মদী তরিকার প্রবর্তক আমীরুল মুমীনিন হযরত আল্লামা সৈয়দ শহীদ আহমদ বেরলভী রহ. দেশ, জাতি আর ধর্মের রক্ষাকবচ হিসেবে অভির্ভূত হয়ে বেনিয়া ইংরেজ ও তাদের দোসর শিখ, গুর্খাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে বালাকুটের ময়দানে শাহাদাত বরণ করেছেন। যা তার উত্তরাধিকারদের জন্য আত্মবিসর্জন ও আত্মত্যাগের প্রেরণাদায়ী অমূল্য সবক। বৃহত্তর সিলেটে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে যে মনীষীর অবদান ই প্রধান সেই আমাদের চেতনার পুরুষ মুসলিম হওয়ার সৌভাগ্য লাভের মাধ্যম সুলতানে সিলেট হযরত শাহজালাল ইয়ামনী রহ.ও জালিম রাজা গৌড়গোবিন্দের বিরুদ্ধে জিহাদের মাধ্যমে ই সিলেট জয় করে এবং দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করেছেন। আর আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ. তো সেই বীর মোজাহিদ দ্বীনের মহান দ্বায়ী হযরত শাহজালাল রহ. এর সঙী ৩৬০ জন আউলিয়ায়ে কেরামের অন্যতম বুযূর্গ আল্লাহর ওলী হযরত শাহ কামাল রহ.-র অধঃস্তন পুরুষ। ঈমানী জযবা, ইলমী মাহিরিয়াত, বাতিলের বিরুদ্ধে জিহাদী ভুমিকা, বেলায়াতের সুউচ্চ মাকাম, মেহনত- রিয়াযতের ধৈর্য আর কুরবানীর মতো হাজারো গুণের সমাহার সেতো পুরুষোত্তম নসবেই প্রাপ্ত। সুতরাং আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ. আদর্শ ও নৈতিকতা তাদের অনুসরণ- অনুকরণ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয় নি। আমরণ বাতিল, গুমরাহির বিরুদ্ধে সেই তেজোদ্বীপ্ত চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন পরীক্ষিত সেনাপতির ন্যায়। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত রাসুলে মাকবুল সা. এর জীবনের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি ছিলেন আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ.। আল্লাহর রাসুল সা. তার সারাটা জীবন ইসলাম আর মানবতার জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহর নির্দেশ পালন করেছেন অক্ষরে অক্ষরে। যা উম্মতের জন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে আজো অবিচল। তিনি ই ছিলেন একমাত্র অনুপম আদর্শ, শ্রেষ্ঠ নীতি আর অবিস্মরণীয় মানবিক গুণের মহাসমাহার সম্বলিত এক মহামানব, যার অনুসরণ ও অনুকরণ ই শান্তি – মুক্তির একমাত্র পাথেয়। সেই আদর্শে বলিয়ান মহীয়ান হয়ে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ. সকল প্রকার ভোগ- বিলাশ, প্রাপ্তি আর অর্জনের হিসেবকে তুচ্ছ করে সারাটা জীবন সত্য- ন্যায় প্রতিষ্ঠার আপোষহীন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। ইসলামী তাহযিব- তামাদ্দুনের ভিত্তিতে আলোকিত, সভ্য, সুশীল ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ ছিলো একটি আদর্শিক সংগ্রাম। দ্বীন প্রতিষ্ঠা ও বাতিল আকিদা রদ করতে তার আন্দোলন ছিলো দুর্বার। কোনরূপ লোভ লালসা, ভয়ভীতি তাকে লক্ষ্যচ্যুত করতে পারে নি। সত্য ও ন্যায়ের ব্যাপারে কোন আপোষ তিনি বরদাশত করতেন না। সত্যের পক্ষ নিলে আর সত্য কথা বললে কে খুশি হবেন আর কে নাখুশ হবেন এটা ছিলো তার বিবেচনার বাহিরে। তিনি হুব্বু ফিল্লাহ ওয়াল বুগদু ফিল্লাহের এক অবিচল সৈনিক ছিলেন। ইসলামের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও অপতৎপরতার মোকাবেলায় তিনি ছিলেন সদা সর্বদা সোচ্ছার। তার খুলুসিয়াত ও তাওয়াক্কুল এতো স্বচ্ছ গভীর ছিলো যে, কোন তাগুতি রক্তচক্ষু বা রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়নের ভয় তাকে কখনো টলাতে পারে নি। সেই সাথে কোন ধরণের লোভ- লালসাও তাকে স্পর্শ করতে পারে নি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যে দেশেই ইসলাম ও মুসলমানের ভাগ্য নিয়ে অমুসলিম, গাদ্দার মুসলিম, স্যেকুলার রাষ্ট্র, ফ্যাসিবাদি গোষ্ঠী ছিনিমিনি খেলা ও নিশ্চিন্ন করার পায়তারা করেছে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ. গর্জে উঠেছেন সিংহ সার্দুলের ন্যায়। মাঠে, ময়দানে, রাজপথে নেমে গেছেন অকুতোভয় বীরের বেশে। যার হুংকারে কেপে উঠেছে রাষ্ট্রযন্ত্র ভীত। চুপসে যেতে বাধ্য হয়েছে সকল তাগুতি শক্তির শয়তানি মস্তিষ্ক। তার এই প্রেরণাদায়ক বৈচিত্র্যময় – বৈপ্লবিক আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা ছিলো লাখো মানু্ষের ঈমান জাগানিয়া শক্তির উৎস। তিনি বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামবিরোধী তথা ইসলামী তাহযিব তামাদ্দুন বিনাশী যতো অপতৎপরতা চালানো হয়েছে তা প্রতিহত করে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে কখনও পিছ পা হন নি। তাসলিমা বিরোধী আন্দোলন, শাবিপ্রবি সিলেট এ মূর্তি স্থাপন ও মুরতাদ জাহানারা ইমামের নামে হলের নামকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন, বাইতুল মুকাররম মসজিদে পবিত্রতা নষ্টে সরকারী পুলিশের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন, স্যাকুলার শিক্ষা ব্যবস্থা ড. কুদরত এ খুদা শিক্ষা  কমিশন বাস্তবায়ন বিরোধী আন্দোলন,  মাদ্রাসা শিক্ষা ধবংসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কামিল ফাযিল ক্লাসকে ডিগ্রী ও মাস্টার্স সমমান দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান করে স্বতন্ত্র আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পূর্বক মান আদায়ের আন্দোলনসহ সকল অনৈতিক আদর্শচ্যুতির বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোই ছিলো তার সংগ্রামি আদর্শ। ২০০৬ সালে স্বতন্ত্র আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও ফাযিল- কামিল জামাতকে ডিগ্রী ও মাস্টার্স সমমানে উন্নীত করার দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সুদূর সিলেট থেকে রাজধানী ঢাকা অভিমুখে হাজার হাজার গাড়ি বহর আর লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম তার আন্দোলন – সংগ্রামের ইতিহাসে এক মেইল ফলক হিসেবে স্বর্ণক্ষরে বাংলাদেশের মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছে। এছাড়াও বহিঃবিশ্বে যখনই ইসলামের আকাশে কালো মেঘ দেখা দিয়েছে বা মুসলিম নিধনের নীলনকশা প্রণিত হয়েছে তার বিরুদ্ধে তিনি বজ্র কন্ঠে হুংকার ছেড়েছেন।১৯৯৯ সালে ভারতের তৎকালিন সরকার মাদ্রাসার স্বীকৃতি বাতিল ও শিক্ষক- কর্মচারীদের বেতন- ভাতা বন্ধ করার প্রতিবাদে তিনি ছিলেন সোচ্চার। গুজরাটে বাবরি মসজিদ ভাঙা ও নির্বিচারে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদে তিনি রাজপথে নেমে এসেছেন। বিভিন্ন মুসলিম দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বিরোধী প্রতিবাদে তিনি ছিলেন সর্বপ্রথম ও প্রধান। ইরাক, আফগানিস্তান, চেসনিয়া, বসনিয়া, উইঘুরে সাম্প্রদায়িক নিধন- পীড়নের বিরুদ্ধে তার হুশিয়ারি ছিলো গগণ বিদারী হায়দরী হাক। আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ. ঈমান, ইসলাম ও আকিদার বিরোধী শক্তিকে কখনও হিসেবেই আনতেন না। তার শক্তি ছিলো আল্লাহর খাস রহমত ও সরকারে কায়েনাতের নেক নজর। তিনি যেমন খানকার পীর ছিলেন, আত্মার চিকিৎসক ছিলেন, নৈতিকতার দৃষ্টান্ত ছিলেন, আদর্শের দিক থেকে অনুস্মরণী- অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন তেমনি আন্দোলন – সংগ্রামের মাঠে ছিলেন মহাবীর, দুঃসাহসী এক সিপাহসালার। রাজনীতর মাঠে ছিলেন এক সমীহ করা ব্যক্তিত্ব। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি রাজনীত, কূটনীতি, অর্থনীতির এক যুগান্তকারী পুরুষ হিসেবে ছিলেন  অগ্রগণ্য। ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থরক্ষা তথা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভৌগলিক পরিমণ্ডলে তাদের ভাগ্য নির্ধারণে তার ভুমিকা ছিলো কল্পনাতীত। এজন্য তিনি নিজের প্রাণ কুরবান করতেও পিছ পা হতেন না। তার আদর্শ আর নির্দেশেই হোক আমাদের আগামীর সুন্দর, স্বচ্ছ ইসলামী সমাজ নির্মাণের অবলম্বন। তার ঝাণ্ডাই হোক আমাদের বিজয়ের নিশান। পরকালে নিজের পরিচয় দেওয়ার দাসখত!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপদেষ্টা মন্ডলীঃমোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন(হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
ডঃ দিলিপ কুমার দাস চৌঃ ( অ্যাডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট ঢাকা)
রজত কান্তি চক্রবর্তী সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী ।।আইন সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আজির উদ্দিন (সেলিম)
নির্বাহী সম্পাদক: মোস্তাক আহমদ।। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোঃ দিলোয়ার হোসেন ।I মহিলা সম্পাদক: মোছাঃ হেপি বেগম ।I বার্তা সম্পাদক: .........................
প্রধান কার্যালয় ২/২৫, ইস্টার্ণ প্লাজা,৩য়-তলা ,আম্বরখানা সিলেট-৩১০০।
+8801712-783194 ... 01304006014 dailyhumanrightsnews24@gmail.com
JS security