Fri. Jun 25th, 2021

শেখ হাসিনা আন্তরিক, সাহসী: আল্লামা শফি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক
এবং সাহসী বলে উল্লেখ করেছেন কওমি
মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড আল হাইয়াতুল
উলিয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়ার
চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শাহ শফি।
বলেছেন, তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমান উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে
গেছেন। তার কন্যার শাসনামলে লাখ লাখ
কওমি ছাত্র সনদের স্বীকৃতির দ্বারা ধন্য
হয়েছে।

কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে
হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেয়ায়
রবিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী
উদ্যানে আয়োজিত শুকরানা এ মন্তব্য
করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। কওমি
মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ‘আল হাইয়াতুল
উলিয়া লিল জামিয়াতিল কাওমিয়া’
কর্তৃক আয়োজিত এই সংবর্ধনায় প্রধান
অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা।
মাহফিলে আল্লামা শফির পক্ষ থেকে
লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মুফতি নুরুল
আমিন। আর বক্তব্যে কওমি মাদ্রাসা
শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান শুকরিয়া
স্বারক প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
কওমি সনদের স্বীকৃতির কথা তুলে ধরে
প্রধানমন্ত্রীকে আল্লামা শফী বলেন,
‘আপনার এ অসামান্য অবদান ইতিহাসের
সোনালী পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে
থাকবে।’

‘কওমি সনদ স্বীকৃতির ঐতিহাসিক দাবিটি
দীর্ঘ দিনের। অতীতে এই দাবি আদায়ের
লক্ষ্যে দেশের ওলামা-কেরাম বহু
আন্দোলন করেছেন। ক্ষমতার পালাবদল
হয়েছে বার বার, কিন্তু এই স্বীকৃতির
ন্যায্য দাবিটি পূরণ হয়নি। সম্প্রতি
বেফাকসহ অন্যান্য বোর্ড সমূহের যৌথ
উদ্যোগ ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে বর্তমান
সরকার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে
স্বীকৃতির দাবিটি ধাপে ধাপে এগিয়ে
নিয়ে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছাতে
সক্ষম হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ও সাহসী
উল্লেখ করে আল্লামা শফি বলেন, ‘শত
আপত্তি, বাধা উপেক্ষা করে কওমি
সনদের বিল পাস করে শেখ হাসিনা
আন্তরিকতা ও সাহসিকতার সহিত সেই
ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত
বাস্তবায়ন করেছেন। এটা নিঃসন্দেহে
তার কওমি ওলামা-কেরামদের প্রতি
দরদপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এই জন্য
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক শুকরিয়া
করছি, মোবারকবাদ জানাচ্ছি। কেননা
মানুষের শুকরিয়া আদায় করা নৈতিক ও
দ্বীনই কর্তব্য।’

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল গণভবনে আল্লামা
শফীর নেতৃত্বে কওমি আলেমদের
উপস্থিতিতে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ
সনদ দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামির
স্টাডিজে মাস্টার্সের সমমান দেয়ার
ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৯
সেপ্টেম্বর সংসদে এই বিলও পাস হবে।
এই দাবিটি কওমি আলেমদের দীর্ঘদিনের
দাবি ছিল। তাদের ১৪ বছরের শিক্ষা
জীবনের কোনো স্বীকৃতি না থাকায়
এতদিন তারা কোনো চাকরিতে যোগ
দিতে পারতেন না।

১৯৯৯ সালে বিএনপি এবং আদর্শিক ‘শত্রু’
জামায়াতের সঙ্গে কওমি
মাদ্রাসাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক দল
ইসলামী ঐক্যজোট জোটবদ্ধ হয় কওমি
সনদের স্বীকৃতির আশ্বাসে। তবে সেই
স্বীকৃতি দেয়া হয়নি বিএনপি-জামায়াত
জোট সরকারের আমলে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার
পর এই স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নেন
প্রধানমন্ত্রী। আলোচনা করেন আলেমদের
সঙ্গে। কিন্তু তাদের মধ্যে বিরোধের
জেরে ভেস্তে যায় এই উদ্যোগ। তবে আট
বছর পর প্রধানমন্ত্রীর সেই উদ্যোগ সফল
হয়। আর এর পরই শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা
দেয়ার আলোচনা হয়।
হেফাজত ও কওমি মাদ্রাসা এক নয়
আল্লামা শফি ধর্মভিত্তিক সংগঠন
হেফাজতে ইসলামেরও আমির। ২০১৩
সালের ৫ মে এই সংগঠনের নেতা-
কর্মীদের ঢাকা অবরোধ এবং শাপলা
চত্বরে অবস্থানকে কেন্দ্র করে নানা
হাঙ্গামা হয়েছিল। যদিও ওই রাতের
অভিযানকে কেন্দ্র করে যেসব অপপ্রচার
ছড়ানো হয়েছিল, পরে তার সবই মিথ্যা
প্রমাণ হয়।
আল্লামা শফি বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন
কণ্ঠে বলতে চাই, আমার কোনো
রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক
কোনো দলের সাথে আমার ও হেফাজতে
ইসলামের নীতিগত সংশ্লিষ্টতা নেই। মনে
রাখবেন, মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদা ও
ধর্মীয় মূল্যবোধকে রক্ষা করাই হেফাজতে
ইসলামের মূল লক্ষ্য।’
‘হেফাজতে ইসলামের নীতি ও আদর্শের
উপর আমরা অটল-অবিচল আছি। আমার
কর্মকৌশল সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক
দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সুযোগ নেই। আমার
বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অপব্যাখ্যা,
মিথ্যাচার করার অবকাশ নেই।’

সামাজিক মাধ্যমে তাকে এবং ও
হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে উদ্দেশ্যেমূলক
অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে
বলেও উল্লেখ করেন আল্লামা শফি। বলেন,
‘কোনো ইলেট্রোনিক মিডিয়া, সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম ও ব্যক্তি বিশেষের
কথা বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমি
সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। মুসলিম
উম্মাহর বর্তমান সংকটকালে আলেম-
ওলামা-কেরাম সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ
মুসলমানদের শিশাদলা, প্রচীরের মতো
ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকা
সময়ের দাবি।’

আল্লাহ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)ও
সাহাবা-কেরামদের বিরুদ্ধে অবমাননা
বন্ধ এবং আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে করা
হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি
জানান আল্লামা শফি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

উপদেষ্টা মন্ডলীঃমোঃ দেলোয়ার হোসেন খাঁন(হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ,প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
ডঃ দিলিপ কুমার দাস চৌঃ ( অ্যাডভোকেট,সুপ্রিম কোর্ট ঢাকা)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী ।।আইন সম্পাদকঃ অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী।।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আজির উদ্দিন (সেলিম)
নির্বাহী সম্পাদক: দিলুয়ার হোসেন।। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: মোছাঃ হেপি বেগম ।I বার্তা সম্পাদক: মোঃ ছাদিকুর রহমান (তানভীর)
প্রধান কার্যালয় ২/২৫, ইস্টার্ণ প্লাজা,৩য়-তলা ,আম্বরখানা সিলেট-৩১০০।
+8801712-783194 dailyhumanrightsnews24@gmail.com